DW on Drik’s 23rd anniversary

0 Flares Twitter 0 Facebook 0 0 Flares ×

Original interview on Deutsche Welle website

সমাজ জীবন

এশিয়ায় আলোকচিত্র শিল্পের পথিকৃৎ দৃক

বাংলাদেশে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে এবং এই দেশকে ইতিবাচকভাবে বর্হিবেশ্বে তুলে ধরতে ১৯৮৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে দৃক৷ আলোকচিত্র গ্রন্থাগার হিসেবে কাজ শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ছড়িয়ে গেছে বিভিন্ন দিকে৷

১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বের দৃক যাত্রা শুরু করেছে ঠিক, তবে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে আরো আগেই কাজ শুরু করেছিলেন ড. শহিদুল আলম৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাজের দুটো দিক ছিল৷ প্রথম দিক হচ্ছে, সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা৷ দ্বিতীয় দিক হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখা হতো৷ বন্যা, মহামারি, দারিদ্র – এগুলোর কারণেই মানুষ বাংলাদেশকে চিনতো৷ এবং আমাদের ধারণা তখনও ছিল, এখনও আছে যে, পাশ্চাত্যের অধিকাংশ শেতাঙ্গ আলোকচিত্রী, যারা আমাদের দেশে এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, তারা আমাদের দেশকে একভাবেই দেখান এবং দেখাতে চান৷ এবং তাদের মাধ্যমেই আমাদের এই (নেতিবাচক)পরিচিতিটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷”

১৯৮৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে দৃক

বাংলাদেশকে বিদেশিদের কাছে এই নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন ড. আলম৷ গড়ে তোলেন একটি সুদক্ষ দল৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা যারা আমাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করি, আমাদের দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্ভাবনা – এগুলো নিয়ে যারা ভাবি, তারা ভিন্নধরনের ছবি তুলবে, ছবি দেবে সেটা আশা করে এবং তাদের জন্য একটা কাঠামো তৈরি করি আমরা৷”

বলাবাহুল্য, বিশ্বের নামকরা আলোকচিত্র গ্রন্থাগারগুলো লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা প্যারিসের মতো শহরে অবস্থিত৷ এসব গ্রন্থাগারে রয়েছে আলোকচিত্র সম্পর্কিত আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা৷ শহিদুল আলম গ্রন্থাগার তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় কোন দেশের কোন শহরকে বেছে নেননি৷ বরং নিজের দেশের রাজধানী ঢাকাতেই কাজ শুরু করেন তিনি৷ গড়ে তোলেন দৃক আলোকচিত্র গ্রন্থাগার৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘শুরুতে ছোট আকারে আমরা কাজ শুরু করি৷ পাশ্চাত্যে আলোকচিত্র গ্রন্থাগারগুলোর অনেক সুবিধা রয়েছে৷ সেগুলো শুরুতে আমাদের ছিল না৷ ফলে অনেক কিছু আমাদের করে নিতে হয়েছে৷ এবং মানুষ গড়া থেকে শুরু করে যান্ত্রিকভাবে যা যা দরকার, সবকিছু আমরা নিজেরা করেছি৷ এমনকি আমাদের গ্যালারির যে টালিগুলো, সেগুলো আমাদের পেছনের বাগানে নিজেদের হাতে গড়া৷”

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন এখানে

২৩ বছর আগে গড়ে ওঠা দৃকের কর্মপরিধি এখন অনেক বিস্তৃত৷ বিশেষ করে এটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাঠশালা, ছবিমেলা, মেজরিটি ওয়ার্ল্ড, দৃকনিউজসহ বিভিন্ন উদ্যোগ৷ এই প্রসঙ্গে ড. আলম বলেন, ‘‘আমাদের ছবি সারা পৃথিবীতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশে ই-মেল চালু করি৷ সেটা তিরানব্বইয়ের শেষে-চুরানব্বইয়ের শুরুর দিকের কথা৷ এখন যে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়, সেটা কিন্তু আমরা সেই ১৯৯২-১৯৯৩ সালের দিকেই চালু করেছি৷”

তিনি বলেন, ‘‘(আলোকচিত্র গ্রন্থাগার) গড়তে গিয়ে আমরা আরো কিছু জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করেছি৷ তার মধ্যে একটা হচ্ছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা৷ প্রথমে আমরা দৃকেই প্রশিক্ষণ দিতাম৷ পরবর্তীকালে পাঠশালা – আমাদের শিক্ষাঙ্গন – সেটাকে শুরু করা হয়৷ আরেকটি হচ্ছে আমাদের ছবিমেলা৷ যেটা প্রতি দু’বছর অন্তর হয়৷ এটা এশিয়ার প্রথম ছবিমেলা৷ এবং এটা এখন পৃথিবীতে একটি ভিন্ন আলোকচিত্র উৎসব হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে৷ এছাড়া আরো অনেক বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি আমরা৷”

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

Be Sociable, Share!
Show
Follow us on Twitter
0 Flares Twitter 0 Facebook 0 0 Flares ×
**********
This entry was posted in Bangladesh, culture, Interviews, Photojournalism, Shahidul Alam, South Asia and tagged , , , , . Bookmark the permalink.

Why don't you leave a reply?