Deutsche Welle on Pathshala

0 Flares Twitter 0 Facebook 0 0 Flares ×

Interview by Arafatul Islam

সমাজ জীবন

এখনও সরকারি ‘স্বীকৃতি’ পায়নি পাঠশালা!

ফটোগ্রাফি স্কুল হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত পাঠশালা৷ ১৯৯৮ সালে এটি দৃকের সহায়ক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করে৷ আলোকচিত্র বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্নাতক ডিগ্রিও প্রদান করছে পাঠশালা৷

সাউথ এশিয়ান মিডিয়া অ্যাকাডেমি, পাঠশালা৷ আলোকচিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে সমাদৃত একটি প্রতিষ্ঠান এটি৷ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি কোর্স চালু করে পাঠশালা৷ পেশাজীবী কিংবা সৌখিন ফটোগ্রাফার – সবার ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে৷ বর্তমানে আলোকচিত্র বিষয়ক স্নাতক ডিগ্রিও প্রদান করছে এই অ্যাকাডেমি৷

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী, লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্ট ড. শহিদুল আলম পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা৷ ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতার একজন বিচারকও তিনি৷ পাঠশালা প্রসঙ্গে শহীদুল আলম বলেন, ‘‘(দেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও) অ্যামেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া থেকে এবং আশেপাশের দেশ থেকে তো বটেই, ছেলেমেয়েরা পাঠশালায় পড়তে আসে৷

পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম

শুধু তাই নয়, আমাদের এখানে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী, যারা আমাদের এখানে স্নাতক পেয়েছে – আমাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী – তারা অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্সসহ অন্যান্য দেশে শিক্ষকতাও করছে৷”

বলাবাহুল্য, বাংলাদেশে আলোকচিত্র বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাঠশালাই শুরু করে৷ সারা বিশ্বে আলোকচিত্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মাধ্যম হলেও বাংলাদেশে এখনো কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকচিত্রবিদ্যা বিভাগ নেই৷ ড. আলম এই বিষয়ে বলেন, ‘‘সারা পৃথিবীতে যে মাধ্যমটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, আলোকচিত্র মাধ্যম এবং বিশেষ করে যেখানে বাংলাদেশ একেবারে অগ্রজ ভূমিকা পালন করেছে, সেই মাধ্যম আমাদের এখানে (বাংলাদেশে) পড়ানোই হয় না৷ আমাদের ছেলেমেয়েরা ফাইন আর্টসে এমএ-বিএ পাস করে, অথচ তাদের আলোকচিত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্কই নেই, এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার৷”

ফটোগ্রাফি স্কুল হিসেবে সারাবিশ্বেই সুখ্যাতি অর্জন করেছে পাঠশালা৷ এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো কনটেস্ট’, ‘দ্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অল রোডস অ্যাওয়ার্ডস’-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে৷

বর্তমানে পাঠশালাকে একটি পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া অ্যাকাডেমি হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন ড. আলম এবং তাঁর দল৷ কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখনো পাঠশালার প্রদান করা ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেয়নি৷ ড. আলম এই বিষয়ে বলেন, ‘‘পাঠশালার স্বীকৃতির জন্য আমরা আবেদন করেছি৷ সেটা এখনো পাইনি৷ হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদেরকে পাঠশালায় পাঠান প্রশিক্ষণের জন্য৷ কিন্তু পাঠশালা তাদের স্বীকৃত নন৷ তবে তাদের সঙ্গেও আমরা স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছি এবং আশা করছি হয়ে যাবে৷”

সাক্ষাৎকারটি শুনতে ক্লিক করুন এখানে

 

রাজনৈতিক কারণে পাঠশালার স্বীকৃতি আটকে আছে কিনা জানতে চাইলে ড. আলম বলেন, ‘‘সেটা বলা মুশকিল৷ কারণ একটি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গ্রহণ করার আগে সরকারের অনেকগুলো নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়মগুলোর কারণও আমি গ্রহণ করি৷ নিশ্চয়ই একটি মানদণ্ড রাখা দরকার৷ কিন্তু পাঠশালা যেখানে সারাবিশ্বে সমাদৃত এবং পৃথিবীর সেরা ফটোগ্রাফি স্কুল হিসেবে অনেকেই চেনে, সেখানে আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে বোধহয় প্রশ্ন করার অতটা জায়গা নেই৷”

শহীদুল আলম বলেন, ‘‘যেটা আমাদের নেই, সেটা হচ্ছে ব্যাংকে যত টাকা থাকা দরকার, সেটা আমাদের নেই৷ যত বিশাল জমি থাকা দরকার সেটা নেই৷ তবে আবার এটাও বলবো, আমাদের এখানেই ব্যাঙের ছাতার মতো দু’তলায়, তিন তলায় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাচ্ছে৷ সেগুলোর ক্ষেত্রে বাধা পড়ে না, অথচ আমাদের ক্ষেত্রে বাধা পড়ে৷”

শহিদুল আলম মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়টি ‘চলমান একটি পরিস্থিতি’৷ শীঘ্রই সেটা হয়ে যাবে বলেও আশাবাদী তিনি৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

Be Sociable, Share!
Show
Follow us on Twitter
0 Flares Twitter 0 Facebook 0 0 Flares ×
**********
This entry was posted in Bangladesh, culture, Education, Pathshala, Photography, Photojournalism, Shahidul Alam and tagged , , , , , , . Bookmark the permalink.

Why don't you leave a reply?