Subscribe to ShahidulNews
ব্লগ প্রতিযোগিতার নতুন বিচারক ড. শহিদুল আলম
ড. শহিদুল আলম
ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতা ‘বেস্ট অব ব্লগ’ বা ববস-এর বাংলা ভাষার বিচারক হিসেবে নিমন্ত্রিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাত আলোকচিত্রী ও ব্লগার শহিদুল আলম৷ আগামী এপ্রিলে এই দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত হবেন জার্মানিতে৷
বাংলাদেশের ফোটোগ্রাফির জগতে মাইল ফলক ‘দৃক্’ ও দক্ষিণ এশিয়া ফোটোগ্রাফি ইনস্টিটিউট ‘পাঠশালা’-র স্থপতি ড. শহিদুল আলম ডয়চে ভেলের এই আমন্ত্রণে ভীষণ খুশি৷ অমায়িক ভাষায় তিনি বললেন, ‘‘একটু ভয় লাগছে৷ বিচারক হিসেবে অনেকবারই ছিলাম বিভিন্ন জায়গায়, কিন্তু ব্লগের ক্ষেত্রে কখনও হয়নি৷ নিজে ব্লগিং করি বহুদিন ধরে৷ কিন্তু ব্লগ সম্পর্কে খুব বেশি যে জানি তা জোর গলায় বলতে পারবো না৷ তবে মজা লাগছে৷”
দৃক্ মানে দৃষ্টি৷ এ দেখা ভাসাভাসা নয়, অনেক গভীরে গিয়ে দেখা৷ শহিদুল আলমের দৃকপাত তাই শুধু চোখ দিয়ে দেখা নয়, মন দিয়ে দেখা, মস্তিষ্ক দিয়ে দেখা৷ আর সেই দেখারই প্রকাশ তাঁর ছবিতে, লেখায়, তাঁর কর্মদ্যোগে৷ মানবাধিকারের পক্ষে, সুশীল সমাজের জোরালো কন্ঠ হিসেবে সক্রিয় দৃক্৷ সক্রিয় সমাজের নানা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে৷ এমনকি, বাংলাদেশের গার্মেন্টস কর্মীদের দাবিদাওয়ার পক্ষেও সোচ্চার শহিদুলের এই অহিংস হাতিয়ার৷ প্রদর্শনী, সিগনেচার ক্যাম্পেন, ব্লগিং – নানাভাবে, নানা মাধ্যমে কাজ করে চলেছে এ প্রতিষ্ঠান৷ কিন্তু কেন?
আন্তর্জাতিকখ্যাত এই আলোকচিত্রীর পাল্টা-প্রশ্ন, ‘‘যখন তারা মাসিক ন্যূনতম আয় পাওয়ার জন্য রাস্তায় নামে, তখন তাদের ওপর বন্দুক চালানো হয়৷ এবং যে মানুষগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদেরকেও হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ তাই এহেন বিচ্ছিন্ন অত্যাচারের একটা প্রতিবাদ রাখা তো খুব স্বাভাবিক – তাই না?”
ববস ২০১১’র লোগো
দৃক-এর প্রাণপুরুষ শহিদুল ছবি তুলে দেশে বিদেশে পুরস্কৃত হয়েছেন৷ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জুরির আসন অলঙ্কৃত করেছেন বহুবার৷ অথচ অনেকেই জানেন না যে, আদতে তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের ব্লগিং জগতে প্রথম পথিকৃৎ৷ অবশ্য বরাবরই ড. আলম ব্লগ লিখেছেন ইংরেজিতে৷ সেটা অবশ্য বাংলা ব্লগিং-এর জগত থেকে তাঁকে দূরে রাখতে পারে নি৷ তাই তাঁর কাছেই জানতে চাই, বাংলা ব্লগের বর্তমান অবস্থাটা কেমন? শহিদুল বলেন, ‘‘আমি মনে করি বাংলা ব্লগ ইংরেজি ভাষার ব্লগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী৷ তাছাড়া, এখন অনেকে ব্লগ লিখছেন৷ অনেক ধরনের কাজ হচ্ছে৷ ভালো ভালো কাজ৷ তবে এটা ঠিক যে ইংরেজি ভাষায় কাজ করাটা এখনও অনেক সহজ৷ খুব সহজেই সেই কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া যায়৷ তার ওপর বাংলাদেশে এখনও ইন্টারনেট সেভাবে ছড়ায় নি৷ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছায় নি এখনও৷ এছাড়া, প্রযুক্তির শ্রেণীগত সমস্যাগুলো তো আছেই৷ অবশ্য ইদানিং, এই প্রযুক্তির কারণেই আবার অনেক কিছু করা সম্ভব৷ এই যেমন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে৷”
বলাবাহুল্য, ‘দ্য বব্স’ এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্লগ পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত৷ এই মাধ্যমে গোটা বিশ্বে মত প্রকাশের অধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করতে চায় ডয়চে ভেলে৷ দু’বছর থেকে ডয়চে ভেলের এই সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতায় যোগ করা হয়েছে বাংলা ভাষাকে৷ ২০১০ সালের আয়োজনে বিচারক ছিলেন ‘সামহয়্যার ইন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা৷ আর গত বছর, সেরা বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতায় বাংলা ভাষার বিচারক হন ‘গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন’-এর রেজওয়ানুল ইসলাম৷
এবছর সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটটি আবারো সাজানো হচ্ছে নতুন করে৷ শুধু ইংরেজিতে নয়, সাইটটি পড়া যাবে বাংলাতেও৷ প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৩ই ফেব্রুয়ারি৷ যাতে বেস্ট ব্লগ, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম, সামাজিক সচেতনতায় প্রযুক্তি, ভিডিও চ্যানেল, সীমানাবিহীন সাংবাদিক পুরস্কার ছাড়াও থাকবে একটি নতুন ‘ক্যাটেগরি’ – শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক ব্লগ৷
প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক
The categories for 2012 are:
Best Blog
Best Social Activism Campaign
Best Use of Technology for Social Good
Best Video Channel
Special Topic Award Culture and Education
Reporters Without Borders Award
Best Blog in each of The BOBs’ languages
The competition starts on February 13.

